সেকেন্ড টাইম ভর্তি পরীক্ষা: একবার না পারিলে দেখো আরেকবার

“কোথাও চান্স পেলাম না। সত্যিই কি আমি এতটা খারাপ? হয়তোবা …’’
“সাধারণ জ্ঞান নিয়ে হেলাফেলা করা একদম উচিত হয়নি।”
“বায়োলজি ভালোভাবে পড়লে অন্তত কিছু একটা করতে পারতাম।”
“আব্বু আম্মুর মুখের দিকে তাকানোই যাচ্ছে না। কী করবো ভেবেই পাচ্ছি না।”
ভর্তি পরীক্ষা এর তুমুল যুদ্ধে হেরে গেলে এমন সব চিন্তা ভাবনা বা কথাবার্তার সাথে পরিচিত হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। আর জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হার হতাশার পরিমাণকে কয়েকশো গুণে বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তাই বলে হতাশ হয়ে বসে থাকলেই কি সব ঠিক হয়ে যাবে? মোটেও না, বরং এত বড় বোকামি না করে second time ভর্তি প্রস্তুতি নেওয়া হবে সবচেয়ে উত্তম সিদ্ধান্ত।
জীবনের যে কোন পর্যায়ে ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে ভালো দিকটি হোল- এই অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যর্থতা আমাদের ভুলগুলোকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, আমাদেরকে ঘুরে দাঁড়ানো শেখায়, আর শেখায় “কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করার পথটি মোটেও অসম্ভব কিছু নয় বরং অধ্যবসায় আর পরিশ্রম দিয়ে এই পথ অনায়াসে জয় করা যায়।”
মেডিকেল এডমিশন কোর্স ২০২২
কোর্সটিতে যা যা থাকছে
সত্যিই যদি ভেবে না পাও কী করবে, তবে আমি একটি পরামর্শ দিতে পারি। সব হতাশা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে, “পাশের বাসার আন্টি” কিংবা প্রতিবেশী আর আত্মীয়স্বজনদের কটূক্তি উপেক্ষা করে তুমি আরেকবার চেষ্টা করে দেখতে পারো। তুমি যে মোটেও হাল ছাড়ার মানুষ নও সেটি প্রমাণের জন্য শুরু করে দিতে পারো second time ভর্তি প্রস্তুতি। জীবনে বিজয়ী হতে চাইলে ঝুঁকি তো নেয়াই যায়, তাই না?
হাত পা গুটিয়ে বসে না থেকে চলো আলোচনা করে দেখি এই হতাশার কোনো কুল-কিনারা করতে পারা যায় নাকি !

ভেবে-চিন্তে Second time ভর্তি পরীক্ষা এর সিদ্ধান্ত নাও:
তুমি যদি ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারটাতে সত্যিই বিশ্বাস করে থাকো তাহলে second time ভর্তি প্রস্তুতি এর সিদ্ধান্ত নিয়ে নাও। এক্ষেত্রে এক বছর নষ্ট হওয়ার দুশ্চিন্তাকে অবশ্যই ঝেড়ে ফেলতে হবে। আবার তুমি যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজে অধ্যয়নরত থাকো, তাহলে সেকেন্ড টাইম ভর্তি প্রস্তুতি এর জন্য সেই পড়ালেখার কিছুটা ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এই ব্যাপারগুলোকে মাথায় রেখে তোমাকে সেকেন্ড টাইম ভর্তি পরীক্ষার মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে।
যদি ভেবে-চিন্তে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারো, তাহলে তোমাকে অভিনন্দন। কেননা সবচেয়ে কঠিন কাজটি তুমি করে ফেলেছো। অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী second time ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তটি ঠিকভাবে নিতে পারে না, দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে সিদ্ধান্ত নিতে অনেক দেরি হয়ে যায়। তোমার সিদ্ধান্তকে আরও প্রত্যয়ী করে তুলতে সেকেন্ড টাইম ভর্তি প্রস্তুতি এর খুঁটিনাটি বিষয় আমি সহজভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম আছে:
একটু হতাশ করে নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে second time ভর্তি পরীক্ষার কোন সুযোগ থাকছে না। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় second time ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ স্থগিত করছে। (সূত্রঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০১৮-১৯)। “ইশশ! যদি ঢাবি, রাবি এইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ থাকত!’’- second time ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে, কী নেই সেটি নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে বরং কী আছে সেটি নিয়ে মাথা ঘামানো।
বুঝলে না? সহজ করে দিচ্ছি। ঢাবি, রাবি সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে second time ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও অনেক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যারা তোমার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। চলো দেখে নেওয়া যাক কারা তোমাকে সেই সুযোগ করে দিচ্ছে –
2nd Time Admission University List 2022:
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (JU), সাভার, ঢাকা।
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রোফেশনালস্ (BUP) মিরপুর, ঢাকা ।
- ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলোজি (IUT) গাজিপুর।
- শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, (SAU), আগারগাঁও, ঢাকা।
- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU), ময়মনসিংহ।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BSMRAU), গাজীপুর।
- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (SAU), সিলেট।
- চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় (CVASU), চট্টগ্রাম।
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (KU)।
- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (BU)।
- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (COU)।
- ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (IU) , কুষ্টিয়া।
- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (BRUR), রংপুর।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (JKKNIU), ময়মনসিংহ।
- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (SUST), সিলেট।
- পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (PSTU), পটুয়াখালী।
- নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিশ্ববিদ্যালয় (NSTU), নোয়াখালী।
- পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (PSTU), পাবনা।
- হাজী মোহাম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (HSTU) দিনাজপুর।
- যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (JUST), যশোর।
- মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (MBSTU), টাঙ্গাইল।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (BSMRSTU), গোপালগঞ্জ।